১. কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ ও দর্শনীয় স্থানসমূহ
কক্সবাজারের মূল সৈকত ছাড়াও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি চমৎকার দেখার মতো জায়গা রয়েছে।
- প্রধান সৈকতসমূহ: কলাতলী, সুগন্ধা এবং লাবণী পয়েন্ট। সুগন্ধা পয়েন্টটি সাধারণত সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে। [1, 2, 3]
- মেরিন ড্রাইভ (Marine Drive): একপাশে বিশাল সমুদ্র আর অন্যপাশে সবুজে ঘেরা পাহাড়ের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া এই রাস্তাটি কক্সবাজারের অন্যতম সেরা আকর্ষণ। [1]
- হিমছড়ি (Himchari): মেরিন ড্রাইভের পাশেই অবস্থিত। এখানে রয়েছে শীতল পানির ঝর্ণা এবং পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্র দেখার চমৎকার ভিউপয়েন্ট। (প্রবেশ ফি: প্রায় ৫০-১০০ টাকা) [1, 2]
- ইনানী সৈকত (Inani Beach): পাথুরে সৈকত হিসেবে পরিচিত। এখানকার কোরাল এবং স্বচ্ছ পানি পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। [1, 2]
- মহেশখালী দ্বীপ (Moheshkhali): ট্রলার বা স্পিডবোটে যাওয়া যায়। এখানে বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির ও শুঁটকি মহাল রয়েছে। [1]
- রামু (Ramu): বৌদ্ধ বিহার এবং ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধের মূর্তির জন্য বিখ্যাত। [1]
২. কক্সবাজারের প্রধান পর্যটন রুট ও যাতায়াত
কক্সবাজারের স্পটগুলো মূলত দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত:
রুট ১: মেরিন ড্রাইভ রুট (দক্ষিণ দিক) [1]
রুট ম্যাপ: কলাতলী মোড় ➔ হিমছড়ি ঝর্ণা ➔ ইনানী পাথুরে সৈকত ➔ পাটুয়ারটেক ➔ টেকনাফ।
- যাতায়াত মাধ্যম: এই রুটে ঘোরার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহন হলো ছাদখোলা টমটম (ইলেকট্রিক ইজিবাইক) অথবা খোলা জিপ (চান্দের গাড়ি)।
- ভাড়া: কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত আপ-ডাউন টমটম রিজার্ভ ভাড়া ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা এবং চান্দের গাড়ি ৩,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা (গ্রুপের জন্য সেরা)।
রুট ২: দ্বীপ ও সংস্কৃতি রুট (উত্তর ও পূর্ব দিক)
রুট ম্যাপ: কক্সবাজার শহর ➔ ৬ নম্বর ঘাট ➔ স্পিডবোট/নৌকা ➔ মহেশখালী দ্বীপ।
কক্সবাজার শহর ➔ আরাকান সড়ক ➔ রামু বৌদ্ধ বিহার।
৩. ঢাকা/সিলেট থেকে কক্সবাজার যাওয়ার উপায়
- বাসে: ঢাকা বা সিলেট থেকে সরাসরি এসি/নন-এসি বাস (যেমন: গ্রীন লাইন, সৌদিয়া, হানিফ, শ্যামলী) সরাসরি কক্সবাজার যায়। ভাড়া নন-এসি ১,০০০-১,২০০ টাকা, এসি ২,০০০-৩,০০০ টাকা। [1, 2]
- ট্রেনে (সবচেয়ে আরামদায়ক): ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার এক্সপ্রেস বা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়া যায়। ভাড়া (শোভন চেয়ার) প্রায় ৭০০-৮০০ টাকা এবং এসি স্নিগ্ধা ১,৪০০-১,৫০০ টাকা। [1, 2]
- আকাশপথে: ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে (ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা) মাত্র ১ ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌঁছানো যায়। ভাড়া ওয়ান-ওয়ে সাধারণত ৪,৫০০ থেকে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। [1]
৪. হোটেল ও খাবারের খরচ (আনুমানিক)
- হোটেল: কলাতলী বা সুগন্ধা পয়েন্টের আশেপাশে অফ-পিক সিজনে ১,২০০ – ২,৫০০ টাকায় এবং পিক সিজনে (শীতকালে) ২,৫০০ – ৫,০০০ টাকায় ভালো মানের নন-এসি/এসি ডাবল রুম পাওয়া যায়। সমুদ্রমুখী লাক্সারি হোটেলের ভাড়া ৮,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
- খাবার: কক্সবাজারের ‘ঝাউবন’, ‘পৌষী’, বা ‘রোঁদেলা’ রেস্তোরাঁ বেশ জনপ্রিয়। সামুদ্রিক মাছের (রূপচাঁদা, লইট্টা ফ্রাই) ভর্তা-ভাতসহ প্রতি বেলা খাবারে জনপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হবে। [1]

