খাগড়াছড়ি ভ্রমণের প্রধান দর্শনীয় স্থান

Williams Brown

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit. Dolor, alias aspernatur quam voluptates sint, dolore doloribus voluptas labore temporibus earum eveniet, reiciendis.

Archive


Tags


খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি ভ্রমণের প্রধান দর্শনীয় স্থান, রুট এবং খরচের বিস্তারিত গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:


১. খাগড়াছড়ির প্রধান আকর্ষণ ও দর্শনীয় স্থানসমূহ

খাগড়াছড়ির স্পটগুলো বেশ রোমাঞ্চকর এবং বৈচিত্র্যময়।

  • আলুটিলা রহস্যময় গুহা (Alutila Cave): এটি খাগড়াছড়ির প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে নেমে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক পাথুরে গুহা, যার ভেতর দিয়ে শীতল পানি প্রবাহিত হয়। মশাল জ্বালিয়ে এই অন্ধকার গুহা পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। (প্রবেশ ফি: প্রায় ৪০-৫০ টাকা)।
  • তারেং (Tareng): আলুটিলা গুহার ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত একটি পাহাড়ের চূড়া। এখান থেকে খাগড়াছড়ি শহরের অসাধারণ প্যানোরামিক ভিউ এবং মেঘালয়ের পাহাড় দেখা যায়।
  • ঝুলন্ত ব্রিজ ও হর্টিকালচার পার্ক: খাগড়াছড়ি শহরের ভেতরেই অবস্থিত একটি সুন্দর পার্ক, যার মূল আকর্ষণ একটি চমৎকার ঝুলন্ত ব্রিজ।
  • রিসাং ঝর্ণা (Risang Waterfall): আলুটিলার কাছেই অবস্থিত একটি পাহাড়ি ঝর্ণা। এই ঝর্ণার বিশেষত্ব হলো এর পাথরের গা বেয়ে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া একটি ‘ন্যাচারাল ওয়াটার স্লাইড’, যেখানে পর্যটকরা পিছলে পানিতে পড়েন।
  • তৈদুছড়া ঝর্ণা: ট্র্যাকিং পছন্দকারীদের জন্য এটি এক দারুণ জায়গা। এটি মূলত দুটি বড় ঝর্ণার সমষ্টি (তৈদুছড়া ১ ও ২), যেখানে যেতে হলে পাহাড় ও ছড়া দিয়ে ট্র্যাকিং করতে হয়।
  • মায়াবিনী লেক: খাগড়াছড়ির পানছড়িতে অবস্থিত পাহাড় ঘেরা একটি সুন্দর ও শান্ত লেক, যেখানে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে।

২. খাগড়াছড়ির প্রধান পর্যটন রুট

খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থানগুলো মূলত দুটি মূল রুটে ভাগ করে ১ থেকে ২ দিনে ঘুরে দেখা সম্ভব:

রুট ১: আলুটিলা ও রিসাং রুট (সবচেয়ে জনপ্রিয়)

রুট ম্যাপ: খাগড়াছড়ি শহর ➔ হর্টিকালচার পার্ক (ঝুলন্ত ব্রিজ) ➔ আলুটিলা গুহা ➔ তারেং হিল ভিউ ➔ রিসাং ঝর্ণা।
  • যাতায়াত মাধ্যম: খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর বা বাস টার্মিনাল থেকে এই রুটে যাওয়ার জন্য সিএনজি বা চাঁন্দের গাড়ি (জিপ) রিজার্ভ করতে হয়।
  • ভুনা/ভাড়া: সারাদিনের জন্য সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা এবং চাঁন্দের গাড়ি ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা।

রুট ২: পানছড়ি রুট (সংস্কৃতি ও শান্ত পরিবেশ)

রুট ম্যাপ: খাগড়াছড়ি শহর ➔ মায়াবিনী লেক ➔ পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির (এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বুদ্ধ মূর্তি)।

৩. ঢাকা/সিলেট থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার উপায়

  • বাসে: ঢাকা (সায়দাবাদ, গাবতলী, কলাবাগান) থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ির নন-এসি (ভাড়া ৮০০-৯০০ টাকা) ও এসি বাস (ভাড়া ১,৪০০-১,৮০০ টাকা) পাওয়া যায়। যেমন: শান্তি পরিবহন, শ্যামলী, হানিফ, এস আলম ইত্যাদি।
  • সিলেট থেকে: সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে খাগড়াছড়ি বা চট্টগ্রামের সরাসরি বাস পাওয়া যায়। চট্টগ্রামে নেমে শান্তি পরিবহনের বাসে করে সহজেই খাগড়াছড়ি আসা যায়।

৪. hotel ও খাবারের খরচ (আনুমানিক)

  • হোটেল/রিসোর্ট: খাগড়াছড়ি শহরে থাকার জন্য ভালো মানের সাধারণ হোটেল রুম ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় পাওয়া যায় (যেমন: হোটেল ইকো ছড়িয়া, গিরি ডিঙি)। এছাড়া একটু প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য পর্যটন কর্পোরেশনের পর্যটন মোটেল বা আলুটিলার পাহাড়ি ভিউসহ রিসোর্টে থাকতে পারেন (রুম ভাড়া ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা)।
  • খাবার: খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে পর্যটকদের প্রধান পছন্দ ‘সিস্টেম রেস্তোরাঁ’ বা ‘ঐতিহ্য রেস্তোরাঁ’। এখানে বাঁশ কোড়ল (বাঁশের কচি অংশ), ব্যাম্বু চিকেন, জুমের চালের ভাত এবং বিভিন্ন পাহাড়ি ভর্তা পাওয়া যায়। প্রতি বেলা খাবারে জনপ্রতি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হবে।