থানচি ও ডিম পাহাড়
১. রিল্যাক্সড সাঙ্গু রিভার ক্রুজ ও রেমাক্রি প্ল্যান (৩ দিন / ২ রাত)
এটি সাধারণ পর্যটক বা পরিবারের জন্য আদর্শ, যেখানে খুব বেশি ট্র্যাকিং বা শারীরিক পরিশ্রম নেই।
- দিন ১: বান্দরবান থেকে থানচি ও ডিম পাহাড়
- সকালে বান্দরবান শহর থেকে চান্দের গাড়িতে রওনা দিন। দেশের সর্বোচ্চ সড়ক ডিম পাহাড় (Dim Pahar) হয়ে দুপুরে থানচি পৌঁছান। বিকেলের সময়টা থানচি ঘাট ও সাঙ্গু নদীর পাড়ে কাটান। রাতে থানচি বাজারে কটেজে থাকুন।
- দিন ২: সাঙ্গু নদী ক্রুজ, তিন্দু ও রেমাক্রি
- সকালে থানচি ঘাট থেকে গাইডসহ ইঞ্জিন বোট নিয়ে রওনা দিন রেমাক্রির উদ্দেশ্যে। পথে তিন্দু (Tindu) এবং বড় পাথর (Boro Pathar) এলাকার আদিম সৌন্দর্য উপভোগ করুন। দুপুরে রেমাক্রি পৌঁছে কটেজে চেক-ইন করুন এবং রেমাক্রি খুম (Remakri Falls)-এর ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করুন। রাতে রেমাক্রির আদিবাসী কটেজে থাকুন।
- দিন ৩: ব্যাক টু বান্দরবান
- ভোরে রেমাক্রি থেকে বোটে করে থানচি ফিরে আসুন। দুপুরের পর থানচি থেকে লোকাল বাস বা চান্দের গাড়িতে বান্দরবান শহর হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
২. ক্লাসিক নাফাখুম অ্যাডভেঞ্চার প্ল্যান (৩ দিন / ২ রাত)
যারা প্রথমবার ট্রেকিং করতে চান এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্ণাগুলোর একটি দেখতে চান, তাদের জন্য এই প্ল্যান।
- দিন ১: থানচি আগমন ও রেমাক্রি যাত্রা
- ঢাকা থেকে রাতের বাসে বান্দরবান হয়ে দুপুরের মধ্যে থানচি পৌঁছান। গাইড ও বিজিবি পারমিশন শেষ করে বোটে করে সরাসরি তিন্দু হয়ে রেমাক্রি চলে যান। রাতে রেমাক্রিতে রাত্রিযাপন।
- দিন ২: নাফাখুম ঝর্ণা ট্র্যাকিং (Nafakhum)
- ভোরে রেমাক্রি থেকে খালের পাশ দিয়ে ২-৩ ঘণ্টার ট্র্যাকিং করে পৌঁছান রূপসী নাফাখুম ঝর্ণায়। ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করে দুপুরের মধ্যে রেমাক্রি ফিরে আসুন। দুপুরের খাবার খেয়ে বোটে করে বিকেলে থানচি চলে আসুন। রাতে থানচিতে থাকুন।
- দিন ৩: ফিরতি যাত্রা
- সকালে থানচি বাজার বা চারপাশের পাড়াগুলো ঘুরে দুপুরের গাড়িতে বান্দরবান হয়ে ফিরে আসুন।
৩. থ্রিলিং অমিয়াখুম ও সাতখুম ট্রিপ (৪ দিন / ৩ রাত)
এটি অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী এবং ভালো শারীরিক সক্ষমতা সম্পন্ন তরুণদের জন্য। এতে খাড়া পাহাড় (দেবতা পাহাড়) আর গভীর জঙ্গল পাড়ি দিতে হয়।
- দিন ১: থানচি থেকে রেমাক্রি
- বান্দরবান থেকে থানচি হয়ে বোটে করে রেমাক্রি পৌঁছানো এবং রাতে রেমাক্রিতে থাকা।
- দিন ২: দেবতা পাহাড় পাড়ি দিয়ে থুইসাপাড়া
- সকালে রেমাক্রি থেকে ট্র্যাকিং শুরু করে দুর্ধর্ষ দেবতা পাহাড় (Debotakhum/Debota Pahar) বেয়ে উঠে আবার নিচে নামতে হবে। বিকেলে জঙ্গল ঘেরা আদিবাসী গ্রাম থুইসাপাড়া (Thuisapara) পৌঁছান। রাতে থুইসাপাড়ার আদিবাসী ঘরে থাকুন।
- দিন ৩: অমিয়াখুম, সাতখুম ও ভেলা রাইডিং
- ভোরে থুইসাপাড়া থেকে রওনা দিয়ে অমিয়াখুম (Amiakhum) ও সাতখুম (Satkhum) ঝর্ণায় যান। বাঁশের ভেলা বানিয়ে সাতখুমের দুই পাহাড়ের মাঝখানের নদী পার হোন (এটি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর দৃশ্য)। দুপুরে থুইসাপাড়া ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে ব্যাক ট্র্যাকিং করে রেমাক্রি বা তিন্দু চলে আসুন।

